৭০ এর দশকের ঘটনা। আরবের রাবেতা আল ইসলামিয়ার সম্মানিত শাইখগণ একটা সমস্যার সমাধানে বসলেন। সমস্যাটা হচ্ছে আরব যুবকরা ইসলামের গর্বিত ইতিহাস সম্পর্কে পরিপূর্ণ বেখবর। এর কারণ হিসেবে তারা দেখতে পায় সাধারণত ইতিহাসের বইগুলো বড় বড় ভলিউমের হয়ে থাকে। যাদের মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে ইতিহাস পড়ার খুব ঝোঁক আছে, তারা না হয় এসব পড়ে ইতিহাসের পাঠ বিস্তারিতভাবে গ্রহণ করবে। কিন্তু এদের সংখ্যাত খুবই কম। বড় অংশতো তারাই যারা এত বড় বই পড়ার আগ্রহ পায় না। ফলে ইসলামের ইতিহাস যতটুকু না জানলেই নয় তাও জানা হচ্ছে না। সমাধান হিসেবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় নবীজির যুগ থেকে শুরু করে বর্তমান ইতিহাসের একদম মূল সারনির্যাস ধাপেধাপে এক মলাটে নিয়ে আসা হবে। তখন এই দায়িত্ব পালনে বই লেখেন শাইখ ডক্টর ইবরাহীম শারিফী। নাম দেয়া হয় ” তারিখুল ইসলাম “। এটিরই অনূদিত রূপ ‘ইসলামের ইতিহাস : নববী যুগ থেকে বর্তমান’। বইর গ্রহণযোগ্যতা বোঝার জন্যে এরচে বড় মূল্যায়ন আর দরকার নেই। তবুও সুখময় অতিরিক্ত কিছু থেকে থাকলে আপনাদের সাথেও শেয়ার করতে চাই। তা হচ্ছেঃ ১। বইটি পাকিস্তান বেফাকের (মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড) সিলেবাসভুক্ত। ২। বইর ভূমিকায় বইটির ব্যাপারে পাকিস্তানের বিখ্যাত শাইখুল হাদিস আল্লামা সলিমুল্লাহ খান রহিমাহুল্লাহর সারগর্ভ ভূমিকা যোগ করা হয়েছে। ৩। মারকাযুদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়ায় শায়খ আবদুল মালেক হাফিজাহুল্লাহ ছাত্রদের ইতিহাস অধ্যয়নের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে এই বইটি পড়ার পরামর্শ দেন। ৪। মূল বইতে রেফারেন্স কম ছিল। লেখক বইর শেষে বইর একটা লম্বা তালিকা দেন যেখান থেকে তিনি সহায়তা নিয়েছেন। কিন্তু পাঠকদের সুবিধার্থে অনুবাদক প্রচুর পরিশ্রম করে নিজের পক্ষ থেকে অনেক রেফারেন্স যোগ করেছেন।