সমাজ শোষণের যতগুলো উপায় এ পর্যন্ত উদ্ভাবিত হয়েছে, ধনীকে আর ধনী এবং গরীবকে আর গরীব করার যত কৌশল প্রয়োগ হয়েছে সূদ তাদের মধ্যে সেরা। কৌশল, পদ্ধতি, ফলাফল, অর্থনীতির চূড়ান্ত অনিষ্ট সাধন, সকল বিচারেই সূদের কাছাকাছি কোন সমাজবিধ্বংসী হাতিয়ার নেই। ইলাহী গ্রন্থ তাওরাতের যে অংশটি বাইবেলের ‘ওল্ড টেস্টামেন্ট’ নামে পরিচিত তা থেকেই জানা যায় সূদের প্রচলন হয়েছিল আরও অতীতে। অর্থাৎ মুসা (আঃ)-এর পূর্বেও সূদ বিদ্যমান ছিল। আজও সেই সূদ অপ্রতিহত গতিতে সমাজে বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, সূদকে সব সময়ই কঠোর ভাষায় নিন্দা করা হয়েছে, সূদখোরদের সমাজের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সূদ বর্জনেরও আহ্বান জানানো হয়েছে যুগে যুগে। কোন ইলাহী গ্রন্থেই সূদের লেনদেনকে সমর্থন করা হয়নি, বৈধতা দেওয়া হয়নি।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন দ্ব্যর্থহীন ভাষায় মহা-গ্রন্থ আল-কুরআনে সূদকে সর্বৈব নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন ‘আল্লাহ ব্যবসাকে কে করেছেন হালাল ও সূদকে করেছেন হারাম’ (বাক্বারাহ ২/২৭৫)।
কেন এই ঘোষণা? রিবা বা সূদ কে কেন হারাম বা নিষিদ্ধ করা হ’ল?
এজন্যই প্রথমে জানা দরকার রিবা বা সূদ কি? রিবা কাকে বলে? আরবী ‘রিবা’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হ’ল বৃদ্ধি, অতিরিক্ত, প্রবৃদ্ধি ইত্যাদি। অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে, ইসলামে সব ধরণের বৃদ্ধি বা প্রবৃদ্ধিকে হারাম বা নিষিদ্ধ গণ্য করা হয়েছে। প্রখ্যাত ইসলামী অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক উমার চাপড়ার মতে- শরী’আতে রিবা বলতে ঐ অর্থকে বোঝায়, যা শর্ত হিসাবে মেয়াদ শেষে ঋণগ্রহীতা মূল অর্থসহ অতিরিক্ত অর্থ ঋণদাতাকে পরিশোধ করতে বাধ্য হয়।