নবী মোহাম্মদ (সঃ) নারী পুরুষের নবী। অধপতির নারী পুরুষের তিনি মুক্তিদাতা। কুরআনের আবেহায়াতের দ্বারা তিনি মৃত মানবতাকে সজীব করেছেন। তিনি শিকল পরা নারীর যুগযুগান্তের শিকল খুলে দিয়েছেন। যে অসহনীয় বোঝার দুরন্ত চাপে নারী সমাজ ধুলোর সাথে মিশে গিয়েছিল সে ঘৃণিত বোঝা তিনি তাদের পিঠ থেকে অপসৃত করেছেন। সভ্যতার ইতিহাসে কারা প্রথমবারের মত সোজা হয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়াল। তিনি তাদেরকে গৌরবের শ্রেষ্ঠ আসন দান করলেন। যাদেরকে ভেগের সামগ্রী হিসেবে রোম-ইরানের জাহেলী সভ্যতা সংস্কৃতি চিহ্নিত করত তিনি তাদেরকে জীবনের নতুন অর্থ, নতুন আলো প্রদর্শন করলেন। তিনি নারীকে আল্লাহর দাসীর মর্যাদা দিলেন। যে কারও কাছে নত হবে না। স্বামী সমাজপতি রাষ্ট্রপতি তথা কোন পতি কোন স্বামীর কাছে মাথা নত করবে না। মাথা নত করবে একমাত্র আল্লাহর কাছে। দুনিয়ার যাবতীয় ভাঙ্গন, বিপর্যয় ও নির্যাতন থেকে বাঁচবার এটাই একমাত্র রক্ষাকবচ।
যা কখনও কোন সমাজ নারীকে দিতে পারেনি তা তিনি তাদেরকে দিলেন তিনি কুরআনের আলো জ্বালিয়ে দিয়ে তাদের মনের অন্ধকার দূর করলেন। তিনি নারীকে মা হিসেবে পেশ করলেন। তিনি ঘোষণা করলেন, মার পায়ের নীচে বেহেশত। তিনি বললেন, মায়ের আনুগত্য আল্লাহর আনুগত্য, মায়ের নাফরমানী আল্লাহর নাফরমানী।
রসূলে খোদার মানুষ ও সমাজ গঠনের কর্মসূচী নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য। স্বতন্ত্রভাবে নারীপুরুষের আল্লাহর নিকট জবাবদিহির ভিত্তিতে তা রচিত। কিয়ামতের দিন যেভাবে পুরুষ আল্লাহর সামনে দাড়িয়ে তার কর্মের হিসাব পেশ করবে ঠিক সেভাবে নারীও আল্লাহর সমীপে তার প্রাত্যহিক কাজকর্মের হিসেব দিবে। নতুন চেতনায় তারা উদ্বুদ্ধ হয়ে নতুন মানুষ ও নতুন সমাজ গঠন করার জন্য কর্মের সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। মদীনার নতুন সমাজ গঠনে আল্লাহর রসূলের সাহাবিয়াররা যে ত্যাগ ও তিতিক্ষার পরিচয় দিয়েছেন তা মানব ইতিহাসে অতুলনীয়।