"পৃথিবীতে মুসলমানরাই কেবল এমন এক জাতি, যারা শ্রম ও প্রচেষ্টার সাথে একটা আধ্যাত্মিক স্পিরিট নিয়ে পথ চলে। তারা সকল শক্তির ওপর শক্তিমান এক আল্লাহর ওপর ভরসা করে। একজন মুসলমান কল্যাণকর সবকিছু অর্জনের নিমিত্তে সাধ্যমতো সার্বিক প্রচেষ্টা চালাবে, আর ফলাফলের জন্য আল্লাহ তায়ালার ওপর ভরসা করবে, তাঁর প্রতি আস্থা রাখবে। বিশ্বাস রাখবে-আল্লাহ যা লিখে রেখেছেন, ফলাফল তা-ই হবে। আর তাতেই রয়েছে চূড়ান্ত কল্যাণ। বাহ্যিক দৃষ্টিতে তা দৃশ্যমান কল্যাণ না-ও হতে পারে। তাওয়াক্কুল অবলম্বনকারী কখনো হতাশ হয় না, স্বপ্নভঙ্গে মুষড়ে পড়ে না। বিপদ-মুসিবতে, যুদ্ধ-সংকটে ঘাবড়ে যায় না। যেকোনো দুর্বিপাক-দুর্যোগে আল্লাহ তায়ালার ওপর দৃঢ় আস্থা রাখে। ঘোর অন্ধকারে প্রত্যাশা করে উজ্জ্বল সুবহে সাদিকের। জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন-নিপীড়নে সে আল্লাহ ব্যতীত কাউকে ভয় করে না। তাওয়াক্কুল এমন এক প্রতিষেধক, যা মুমিন-জীবনকে হীনম্মন্যতা থেকে মুক্ত রাখে। "
ড. ইউসুফ আল কারজাভি (রহ.)"ড. ইউসুফ আল কারজাভি। আজকের দুনিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামি চিন্তাবিদ ও আলিম। ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গির ভারসাম্যপূর্ণ ব্যাখ্যা প্রদানে তিনি অতুলনীয়। জাহেলিয়াতের নানা চ্যালেঞ্জের মুখে সৃষ্ট সন্দেহ-সংশয় নিরসনে প্রাজ্ঞতার সাথে কাজ করছেন। ১৯২৬ সালের মিশরে জন্ম নেওয়া এই মহান ব্যক্তিত্ব ‘ইখওয়ানুল মুসলিমিন’-এর অন্যতম আধ্যাত্মিক নেতা। পড়াশোনা করেছেন আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছাত্রজীবনেই শিক্ষকদের নিকট হতে ‘আল্লামা’ খেতাবে ভূষিত হয়েছিলেন; লিখেছেন শতাধিক গ্রন্থ। আলিমদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘ইত্তেহাদুল আলামি লি উলামাইল মুসলিমিন’-এর সভাপতি ছিলেন। বিভিন্ন দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। বর্তমানে কাতারে বসবাস করছেন। বিশ্ব ইসলামি আন্দোলনের অন্যতম অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। "