সুরভিত সাহাবি জীবন শিল্পী যেভাবে তৈরি করেন সুনিপুণ শিল্প, আল্লাহর রাসুলও সেভাবে তৈরি করেছেন তাঁর সাহাবাদের৷ ঈমানের দীক্ষা দিয়ে, পরম ধৈর্য শিখিয়ে, সুন্দর আর উন্নত চারিত্রিক উৎকর্ষতার পাঠ বাতলে, যুদ্ধের কলাকৌশলে— সাহাবাদের জীবনের সমস্ত বিন্দুতে নবিজি সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রেখেছেন যত্ন আর পরিচর্যার ছাপ, যে যত্ন আর পরিচর্যা পরবর্তীতে তাদেরকে পরিণত করেছে সোনার মানুষে। তারা যেমন দিগ্বিজয়ী বীর হয়েছেন, তেমনি হয়ে উঠতে পেরেছিলেন মানবতার মূর্ত প্রতীকে। নবিজি সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খুব কাছাকাছি থেকে কীভাবে সাহাবারা রপ্ত করেছিলেন জীবনের পাঠ? কীভাবে তারা করেছিলেন অনুপম আদর্শের অনুসরণ? আল্লাহর রাসুলের সাহচর্য পেয়ে কীভাবে তারা পৌঁছে গিয়েছিলেন উৎকর্ষতার অনন্য উচ্চতায়—সুরভিত সাহাবি জীবন আমাদের সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে সহায়তা করবে। সুরভিত তাবেয়ি জীবন মনে হচ্ছে, কল্পনায় আমি তাঁদের জরাজীর্ণ মসজিদের সামনে এসে থমকে দাঁড়িয়েছি। এখনো মসজিদের দরজায় লণ্ঠন জ্বলছে, ভিতর থেকে ভেসে আসছে ইলমি হালাকার মৃদু আওয়াজ। হয়তো কোনো সাহাবি উপদেশ দিচ্ছেন, শোনাচ্ছেন রাসুলের হাদিস। আমি তাঁদের জীবনের খোলা জানালা দিয়ে দেখতে পাচ্ছি সাহাবিদের স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। কী সাদাসিধা অথচ শুভ্র জীবন তাঁদের! অনাড়ম্বর অথচ নির্মল জীবনযাপন! ধুলো জর্জরিত আর কর্দমাক্ত এই দুনিয়ার আলো-হাওয়া-জলে এমন একদল মানুষ বেঁচে ছিলেন একদা, যাদের পায়ের কাছে এসে গড়াগড়ি খেত তাবৎ দুনিয়া, কিন্তু কী অদ্ভুত স্বাভাবিকতায় তারা পায়ে ঠেলেছেন সেই লোভ আর লালসাকে! সাহাবিদের মতো সোনার মানুষের সংস্পর্শে তারাও হয়ে উঠেছিলেন মহামূল্যবান জহরত। দুনিয়াতে সত্যিকার অর্থে বেঁচে ছিলেন, এমন একদল সোনার মানুষের জীবনের টুকরো ঘটনা দিয়ে সাজানো ‘সুরভিত তাবেয়ি জীবন’ বইটি।
জিহাদ তুরবানিজিহাদ তুরবানি ফিলিস্তিনি লেখক, কবি ও ইতিহাস গবেষক। ইসলামের ইতিহাসের প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী ও অনুসন্ধিৎসু একজন গবেষক। এই গবেষণা তিনি মুসলিমদের সামনে তুলে ধরে তাদের সজাগ ও সচেতন করে তুলতে সদা তৎপর। ইসলামের ইতিহাস নিয়ে তিনি নানাভাবে, নানা আঙ্গিকে কাজ করেছেন। মিয়াতুন মিন উজামায়িল উম্মাতিল ইসলাম গাইয়ারু মাজরাত তারখি (ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তনকারী ১০০ জন মহান মুসলিম ব্যক্তিত্ব) তার বিখ্যাত গ্রন্থ। আরব বিশে^ তিনি খ্যাতি অর্জন করেছিলেন বাশার আল আসাদের সরকারের বিরুদ্ধে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ এবং হোসনি মুবারকের সরকারের বিরুদ্ধে মিশরীয় বিপ্লবের সময় তার সমর্থনমূলক কবিতার জন্য। ‘মা ওয়াহান্না’ (আমরা বিচলিত হইনি) ও ‘ইন্নানাল আবতালু’ (আমরাই বীর) তার বিখ্যাত কবিতা। পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় তার রচিত গ্রন্থ অনূদিত হয়েছে। তার রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলোÑ১০১ লাগজু বারবারুসা, ১০১ সিররু আরিয়ুস, ১০১ ফান্দিাল ও ১০১ আল মারিকাতুল আখিরাহ। মাদরাসাতু মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম ও মাদরাসাতুস সাহাবাহ সিরাত তার দুটি অসাধারণ কাজ।